সর্বশেষ:
ঢাকা, ডিসেম্বর ৪, ২০২১, ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৮

cosmicculture.science: বিজ্ঞানকে জানতে ও জানাতে
বৃহস্পতিবার ● ৯ এপ্রিল ২০২০
প্রথম পাতা » মহাজাগতিক পথচলা » উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি
প্রথম পাতা » উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি
১৪২ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৯ এপ্রিল ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি
১৯০০ শতকের গোড়ার দিকে অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশে ম্যালেরিয়ার পরে প্রোটোজোয়ান পরজীবী ঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী রোগ ছিল কালাজ্বর। প্রায়ই মহামারীর প্রাদুর্ভাবে বাংলা ও আসামের বিস্তীর্ণ প্রান্তর উজাড় হয়ে যেত, অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা যেত কাতারে কাতারে মানুষ। এরকম একটি শঙ্কার্ত সময়ে ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলের (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল) ল্যাবরেটরিতে কালাজ্বরের প্রতিষেধকের যুগান্তকারী আবিস্কার করেন একজন বাঙালী চিকিৎসক ও বৈজ্ঞানিক। তাঁর আবিষ্কৃত কালাজ্বরের ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামাইন কালাজ্বরের প্রকোপ কমিয়ে এনে বাঁচিয়ে দেয় অসংখ্য মানুষের প্রাণ। এই খ্যাতনামা ব্যক্তিটি ছিলেন উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী।

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী’র জন্ম ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর পূর্ব বর্ধমানের সরডাঙ্গা গ্রামে। তাঁর পিতা নীলমণি ব্রহ্মচারী ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়েজের জেনারেল ফিজিসিয়ান এবং মা সৌরভ সুন্দরী দেবী ছিলেন গৃহিনী।

উপেন্দ্রনাথ জামালপুরে পূর্ব রেলওয়ের জামালপুর ইস্টার্ন রেলওয়েজ বয়েজ হাই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর গণিত, রসায়ন, জীববিদ্যায় আগ্রহ। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান হুগলি মহঃসীন কলেজ থেকে গণিতে প্রথম শ্রেণীতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এল.এম.এফ. এবং ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে ভেষজবিজ্ঞান ও শল্যচিকিৎসায় প্রথম স্থান নিয়ে এম.বি. পাস করেন। পড়াশোনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষরস্বরুপ তিনি গুডিভ ও ম্যাকলাউড পদক পান। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে পাশ করেন এম.ডি. এবং ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর গবেষনা সমাপন হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল রক্তের লোহিতকণিকার ভাঙ্গণ। প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময়ে রসায়নের শিক্ষক ছিলেন স্যার আলেক্সান্ডার পেডলার ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অনুপ্রেরণা উপেন্দ্রনাথের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

উপেন্দ্রনাথ অল্প সময়ের জন্য ব্রিটিশ সার্জন ও ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল সার্ভিসের ডিরেক্টর জেনারেল স্যার জেরাল্ড বমফোর্ডের গৃহ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। উপেন্দ্রনাথের প্রতিভা মুগ্ধ করেছিল স্যার জেরাল্ড বমফোর্ডকে। তাঁরই উদ্যোগে উপেন্দ্রনাথ ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ) চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন এবং কয়েক বছর অধ্যাপনা করেছিলেন। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানের নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ) মেডিসিনের শিক্ষক ও চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। এখানেই ২০ বছরের অধ্যাপনা ও গবেষণাকালে তিনি আবিষ্কার করেন কালাজ্বরের এই যুগান্তকারী ওষুধ।

১৯০২ খ্রিস্টাব্দের দিকে গোটা বিশ্বজুড়েই কালাজ্বরের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এসময়ে স্যর লিওনার্ড রজার্স কালাজ্বর নিয়ে তাঁর গবেষণা শুরু করেন। ওদিকে ইতালিতে তখন অ্যান্টিমোনাইল পটাসিয়াম টার্টারেট প্রয়োগ করে সুফল মিলছিলো, তবে একই জিনিস প্রয়োগে ভারতবর্ষে উল্টো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিল। উপেন্দ্রনাথ যেন এমনটাই আগে থেকে আঁচ করেছিলেন। ওদিকে ম্যালেরিয়ার কারন আবিস্কারের জন্য ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে চিকিৎসায় নোবেলজয়ী স্যর রোনাল্ড রসকে তখন কালাজ্বর কমিশনের প্রধান করা হয়। তিনি জানান, এনোফিলিস প্রজাতির মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ালেও কালাজ্বরের কারণ প্রোটোজোয়া বা পরজীবী। লিশম্যানিয়া গণের পরজীবী Leishmania donovani এই রোগ ঘটায়। তবে কালাজ্বরের প্রতিষেধক আবিষ্কারে চিকিৎসকদের তৎপরতা ছিল কম। তাই ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে তাঁর নিজের ছোট্ট ল্যাবরেটরিতেই গবেষণা শুরু করে দেন উপেন্দ্রনাথ। যদিও নিতান্ত ছিল গবেষণা সরঞ্জাম আর একদমই ছিল না আর্থিক অনুদান। তবুও পিছু না হটে নিজ উদ্যোগে চালিয়ে যেতে শুরু করলেন গবেষণা।

উপেন্দ্রনাথ দেখলেন এই জ্বরের কারণ বেলেমাছি (Phlebotomus argntipes)। এই মাছির লালায় বাহিত পরজীবী মানুষের প্লীহা, যকৃত, অস্থিমজ্জাতে সংক্রমণ ঘটায়। তিনি আগেই জানতেন ভারতবর্ষে পটাসিয়াম টার্টারেট প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রযেছে, তাই তিনি সোডিয়াম অ্যান্টিমনি টার্টারেট নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। পরীক্ষায় দেখলেন ধাতব অ্যান্টিমনি সহজেই প্লীহার মধ্যে বেড়ে চলা পরজীবীদের নষ্ট করে ফেলতে পারে। তবে গবেষণায় বড় অসুবিধা ছিল অ্যান্টিমনি ধাতু সহজলভ্য নয়। তাই গবেষণার জন্য নিজেকেই অ্যান্টিমনি তৈরি করতে হত। উপেন্দ্রনাথের পরিশ্রম আর একাগ্রতা দেখে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্ডিয়ান রিসার্চ ফান্ড অ্যাসোসিয়েশনের তরফে তাঁকে অনুদান দেওয়া হয়। শুরু হয় তাঁর বৃহত্তর পরিসরে গবেষণা।

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি এই গবেষণাগারে বসেই ইউরিয়া স্টিবামাইন আবিষ্কার করেন। নিচে তার উদ্ধৃতি। ছবিসূত্র: Gleanings From My Researches, by Upendranath Brahmachari, Calcutta University Press, 1940
১৯২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আর্সেনিক, পারদ, কুইনাইন আর সোডিয়াম এন্টিমনি টারটারেটের একটি মিশ্রণকে কালাজ্বরের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু প্রতিষেধকটি কালাজ্বর রোধে সম্পূর্ণ কার্যকরী ছিল না। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে গবেষণার একটি পর্যায়ে উপেন্দ্রনাথ সোডিয়াম এন্টিমনি থেকে সোডিয়াম পৃথক করে ইউরিয়া আর এন্টিমনির সংযোগে ইউরিয়া স্টিবামিন এর যৌগ তৈরি করতে সক্ষম হলেন। এভাবেই ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয় কালাজ্বরের জীবনদায়ী ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামাইন। প্রথমে খরগোশের উপর প্রয়োগ করে সুফল পান উপেন্দ্রনাথ। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ক্যাম্পবেল ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কালাজ্বর রোগীদের ওপর ইউরিয়া স্টিবামাইনের প্রয়োগ করেন উপেন্দ্রনাথ। দেখা যায়, মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগ নিরাময় সম্ভব হচ্ছে। পর পর ন’জন রোগীকে সুস্থ করে তোলে উপেন্দ্রনাথের প্রতিষেধক। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি এই প্রতিষেধক প্রয়োগের। তবে আসমের গর্ভনর স্যর জন খের উপেন্দ্রনাথের আবিষ্কারের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং গোটা আসামজুড়ে ওষুধটি প্রয়োগ করতে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগেই প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হলেও সুকুমার রায় কেন মারা যান তা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। যদিও জনশ্রুতি রয়েছে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কলকাতার ডাক্তারদের এই ওষুধ প্রয়োগের ছাড়পত্র না দেওয়ায় সুকুমার রায় এই প্রতিষেধক পাননি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীকে গ্রিফিথ মেমোরিয়াল পুরস্কারে সম্মানিত করেছিল। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন তাকে মিন্টো পদক দিয়েছিল। এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল তাকে স্যার উইলিয়াম জোনস পদকে সম্মানিত করেছিল। এছাড়াও তিনি কাইজার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তাকে রায়বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেছিল এবং ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে উপেন্দ্রনাথ ব্র্‌হ্মচারী নাইট উপাধি পান। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে কলকাতা পৌরসভা লাউডন স্ট্রিটকে ‘উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী স্ট্রিট’ নামকরণ করে। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে তাকে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে রোনাল্ড রস শুধুমাত্র ম্যালেরিয়ার কারণ আবিস্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পেলেও সাদৃশ্যপূর্ণ প্রাণঘাতী রোগ কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কার করেও উপেন্দ্রনাথ কেন নোবেল পুরষ্কার পেলেন না সেটি নিয়ে এখনো বিতর্ক অবসান হয়নি। ধারণা করা হয় তিনি পরাধীন ভারতের বর্ণবাদের শিকার। ২০০৭ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত Dictionary of Medical Biography (৫ম খন্ড)-এ বিশ্বের একশোটি দেশের এগারশো চিকিৎসা বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কারের মধ্যে উপেন্দ্রনাথ ব্রক্ষচারীকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

১৯৩০ সালে বেঙ্গল এশিয়াটিক সোসাইটিতে সভাপতির বক্তব্যে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী বলেছিলেন: “যখন আমি স্মৃতি রোমন্থন করি যে আমি চিকিৎসাশাস্ত্রে কয়েক শতাধিক মেডিকেল ছাত্রকে পড়ানোর ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং আমি নবীন ও অস্থিরমনা যুবকদের উদ্দেশ্যে কথা বলেছিলাম এবং তারপরে এখন চারিদিকে তার ফল দেখতে পাই। আমি স্যার আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের মতোই অনুভব করি যে একটি রূপান্তর ঘটেছে, যা রেডিয়ামের রূপান্তরের চেয়ে অনেক বিস্ময়কর এবং প্রক্রিয়াটিতে অবশ্যই আরও অনেক বেশি শক্তি জড়িয়ে রয়েছে…..মানব সভ্যতার আদি বাসস্থান ভারত এখন স্বাস্থ্যকর অবস্থা ফিরে পাচ্ছে, যা স্বর্ণালী সময়ে অবশ্যই উপভোগ করছে। যে রোগগুলি বহু শতাব্দী ধরে নিরাময় অযোগ্য বলে মনে করা হতো এবং ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে, সেসব রোগের ত্রাস এখন শেষ হয়ে গিয়েছে।”

শিরায় ধাতব অ্যান্টিমনি পরিচালনা করার জন্য উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারি কর্তৃক তৈরি মেশিন। ছবিসূত্র: A Treatise on Kala-azar’, by Upendranath Brahmachari, John Bale, Sons and Danielson Limited, 1928
উপেন্দ্রনাথ ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ননী বালা দেবীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে উপেন্দ্রনাথ সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী অবসর গ্রহণের পর কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল) ট্রপিক্যাল ডিসিসের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়া গবেষণা কাজে কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিটে নিজের বাসভবনেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘ব্রহ্মচারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। পৃথিবীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম ব্লাড ব্যাঙ্ক স্হাপিত হয় ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তার ঠিক দুই বছর পরই ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর উদ্যোগে পৃথিবীর দ্বিতীয় ব্লাড ব্যাঙ্ক স্হাপিত হয় কলকাতায়। কলকাতায় তার হাত ধরেই জরুরি চিকিৎসা সেবায় অভাবনীয় পরিবর্তন আসে। তাছাড়া তৎকালীন ভারতীয় রেড ক্রস সোসাইটির প্রশাসনিক দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয়। কালাজ্বর ছাড়াও উপেন্দ্রনাথ ফাইলেরিয়া,ডায়াবেটিস, কুষ্ঠ, মেনিনজাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সিফিলিস প্রভৃতি নিয়েও গবেষণা করেছিলেন। তিনি শুধু একজন চিকিৎস ও গবেষকই ছিলেন না, বরং ছিলেন মানবতাকামী। দরিদ্র রোগীদের কথা ভেবে তিনি সরকারের কাছে ইউরিয়া স্টিবামাইন কেনা দামে বিক্রি করতেন এবং এই ওষুধের কোন পেটেন্ট নেননি।

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী ৭২ বছর বয়সে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিজ্ঞান জার্নাল ন্যাচার এর ১৫৭তম সংখ্যায় ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৬ শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। শোকবার্তার অ্যাবস্ট্র্যাক্টে উল্লেখ করা হয়: “৬ ফেব্রুয়ারি স্যার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর মৃত্যুতে ভারতবর্ষ তার অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানীকে হারাল। স্যার উপেন্দ্রনাথ বিশ্বের কাছে অ্যান্টি-লিশমেনিয়াল ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামাইনের আবিষ্কারক ও জনক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন, কিন্তু ভারতবর্ষে চিকিৎসাশাস্ত্রে গবেষণায় আগ্রহী সকলেই তাকে বিভিন্ন বিষয়ে একজন উদ্ভাবনক্ষম এবং ক্লান্তিহীন অন্বেষক হিসেবে জানেন।”

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে:

ক) Studies in Haemolysis, Calcutta University, 1909.
খ) Kala-Azar : Its treatment, Butterworth & Co. Ltd. Calcutta 1917.
গ) Kala-Azar in Doctor Carl Mense’s Handbuch der Tropenkranahaiten, vol. IV, 1926.
ঘ) Treatise on Kala-Azar, John Bale, Son’s & Danielsson Ltd., London, 1928.
ঙ) Campaign against Kala-Azar in India, Jubilee Publication on the 80th birthday of Dr. Prof. Bernhard Nocht, Hamburg, 1937.
চ) Progress of Medical Research work in India during the last 25 years, an progress of Science in India, during the past 25 years, Indian Science Congress Association 1938.
ছ) Gleanings from my Researchers Vol. I, Calcutta University 1940
জ) Gleanings from my Researchers Vol. II Calcutta University 1941
ঝ) Infantile Biliary Cirrhosis in India in British Encyclopedia of Medical practice. Edited by Sir Humphrey Rolleston

 

তথ্যসূত্র:
i) Vigyan Prasar, India
ii) Department of Biotechnology, Ministry of Science & Technology, India
iii) Nature 157, 542-543 (27 April 1946)



আর্কাইভ

ব্ল্যাকহোল থেকে আলোকরশ্মির নির্গমন! পূর্ণতা মিলল আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের
প্রথম চন্দ্রাভিযানের নভোচারী মাইকেল কলিন্স এর জীবনাবসান
মঙ্গলে ইনজেনুইটি’র নতুন সাফল্য
শুক্র গ্রহে প্রাণের সম্ভাব্য নির্দেশকের সন্ধান লাভ
আফ্রিকায় ৫০ বছর পরে নতুনভাবে হস্তিছুঁচোর দেখা মিলল
বামন গ্রহ সেরেসের পৃষ্ঠের উজ্জ্বলতার কারণ লবণাক্ত জল
রাতের আকাশে নিওওয়াইস ধূমকেতুর বর্ণিল ছটা,আবার দেখা মিলবে ৬,৭৬৭ বছর পরে!
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২০
মহাকাশে পদার্পণের নতুন ইতিহাস নাসার দুই নভোচারী নিয়ে স্পেসএক্স রকেটের মহাকাশে যাত্রা
ক্রিকেটের ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি বা বৃষ্টি আইনের যুগ্ম প্রবক্তা গণিতবিদ টনি লুইস আর নেই